সূরা ফাতিহার অনুবাদ এবং সংশ্লিষ্ট সংক্ষিপ্ত আলোচনা।

সূরা ফাতিহার বাংলা অনুবাদ।

Apr 14, 2026 - 14:20
 3  19

সূরা ফাতিহার অনুবাদ এবং সংশ্লিষ্ট সংক্ষিপ্ত আলোচনা।

সূরা আল ফাতিহা মক্কী সুরা। আয়াত সংখ্যা: ৭, রুকু সংখ্যা: ১।

সূরা ফাতিহা সম্পর্কে:

সূরা ফাতিহা সূরা নং (১), ওহীর ক্রমানুসারে এটি পঞ্চম (৫) নং সূরা।

আল-ফাতিহা এর অর্থ: শুরু, আরম্ভ। فاتحة الكتاب: কিতাবের সূচনা। আর কুরআনের সূচনা সূরা ‘ফাতিহা’ থেকে। সূরা ফাতিহা মাক্কী সূরা, হিজরতের পূর্বে মক্কায় এবং মক্কার আশেপাশে অবতীর্ণ সূরা কে মাক্কী সূরা বলা হয়।

সূরা ফাতিহার মধ্যে (৭) টি আয়াত এবং (১) টি রুকু রয়েছে। সূরা ফাতিহার বিভিন্ন নাম রয়েছে, তন্মধ্যে কিছু নাম খুবই প্রসিদ্ধ যেমন: (১) السبع المثاني (আস সাবউল মাসানী) সাত বার বার পাঠ্যআয়াত। 

(২) " القرآن العظيم " আল কুরআনুল আযীম " মহান কুরআন। 

(৩) " الرقية "আর রুক্বিয়াহ " দম ও ঝাড়ফুঁক। 

(৪) " ام القرآن " (উম্মুল-কুরআন) কুরআনের মা। 

সূরা ফাতিহার ফজিলত:

(১) সুরা আল-ফাতিহা ও সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করলে উভয় সূরায় যা চাওয়া হয়েছে তা পাঠকারীকে দেওয়া হবে।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ بَيْنَمَا جِبْرِيلُ قَاعِدٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم سَمِعَ نَقِيضًا مِنْ فَوْقِهِ فَرَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ هَذَا بَابٌ مِنَ السَّمَاءِ فُتِحَ الْيَوْمَ لَمْ يُفْتَحْ قَطُّ إِلاَّ الْيَوْمَ فَنَزَلَ مِنْهُ مَلَكٌ فَقَالَ هَذَا مَلَكٌ نَزَلَ إِلَى الأَرْضِ لَمْ يَنْزِلْ قَطُّ إِلاَّ الْيَوْمَ فَسَلَّمَ وَقَالَ أَبْشِرْ بِنُورَيْنِ أُوتِيتَهُمَا لَمْ يُؤْتَهُمَا نَبِيٌّ قَبْلَكَ فَاتِحَةُ الْكِتَابِ وَخَوَاتِيمُ سُورَةِ الْبَقَرَةِ لَنْ تَقْرَأَ بِحَرْفٍ مِنْهُمَا إِلاَّ أُعْطِيتَهُ ‏.

আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, একদিন জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বসেছিলেন। সে সময় তিনি উপর দিক থেকে দরজা খোলার একটা প্রচণ্ড আওয়াজ শুনতে পেয়ে মাথা উঠিয়ে বললেনঃ এটি আসমানের একটি দরজা। আজকেই এটি খোলা হ’ল- ইতোপূর্বে আর কখনো খোলা হয়নি। আর এ দরজা দিয়ে একজন ফেরেশতা পৃথিবীতে নেমে আসলেন। জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম বললেন: এই ফেরেশতা আজকের এ দিনের আগে আর কখনো তিনি পৃথিবীতে আসেননি। তারপর তিনি সালাম দিয়ে বললেনঃ আপনি (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপনাকে দেয়া দু’টি নূর ( আলোর) সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আপনার পূর্বে আর কোন নবীকে তা দেয়া হয়নি। আর ঐ দু’টি নূর হ’ল: (১) ফা-তিহাতুল কিতাব (২) সূরাহ আল বাক্বারার শেষ দুই আয়াত। এর যে কোন অক্ষর (হার্‌ফ) আপনি পড়বেন তার মধ্যকার প্রার্থিত বিষয় আপনাকে দেয়া হবে। (সহিহ মুসলিম, কিতাব ফাজায়িলে কুরআন, অধ্যায়:সুরা আল ফাতিহার ফজিলতের, হাদিস নং ৮০৬)।

২) যে ব্যক্তি নামাজে (ইমাম হোক অথবা মুক্তাদী) সূরা ফাতিহা পাঠ করল না, তার নামাজ সহীহ হয়নি।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ مَنْ صَلَّى صَلاَةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَهْىَ خِدَاجٌ - ثَلاَثًا - غَيْرُ تَمَامٍ ‏"‏ ‏.‏ فَقِيلَ لأَبِي هُرَيْرَةَ إِنَّا نَكُونُ وَرَاءَ الإِمَامِ ‏.‏ فَقَالَ اقْرَأْ بِهَا فِي نَفْسِكَ 

আবূ হুরাইরাহ্ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলছেন: যে ব্যাক্তি নামাজে "কোরআনের মা" সুরা ফাতেহা পাঠ করল না তার নামাজ পূর্ণাঙ্গ আদায় হল না।তার নামাজ ত্রুটিপূর্ণ থেকে গেল। এ কথাটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার বলেছেন। আবূ হুরাইরাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু-কে জিজ্ঞেস করা হল, আমরা যখন ইমামের পিছনে সালাত আদায় করব তখন কী করব? তিনি বললেন, তোমারা চুপে চুপে তা পড়ে নাও। (সহীহ মুসলিম কিতাবুস সালাত, অধ্যায় প্রত্যেক রাকাতে আল-ফাতিহা পড়া ওয়াজিব - হাদীস নং (৩৯৫)।

 সুরা ফাতিহা র সারমর্ম:

(১) সূরা ফাতিহার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা করা হয়েছে। 

(২) ইবাদত হবে একমাত্র আল্লাহর এবং সাহায্য একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করা জায়েয নয় এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে সাহায্য চাওয়াও জায়েয নয়। 

(৩) হেদায়েতের উপর অবিচল থাকার দোয়া। 

(৪) নেক মানুষের পথ অনুসরণ করার দোয়া। 

(৫) দুষ্ট লোকদের পথ থেকে বিরত থাকার জন্য দোয়া।

সূরা ফাতিহার অনুবাদ: 

بِسمِ اللَّهِ الرَّحمٰنِ الرَّحيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে, যিনি বড় মেহেরবান, বড় দয়ালু।

الحَمدُ لِلَّهِ رَبِّ العٰلَمينَ

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যেই, যিনি সকল জগতের প্রতিপালক। 

الرَّحمٰنِ الرَّحيمِ

যিনি বড় মেহেরবান, বড় দয়ালু।

مٰلِكِ يَومِ الدّينِ

 যিনি প্রতিদান দিনের (কিয়ামত) মালিক।

إِيّاكَ نَعبُدُ وَإِيّاكَ نَستَعينُ

 (হে আল্লাহ!) আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং তোমার কাছেই সহায়তা চাই।

 اهدِنَا الصِّرٰطَ المُستَقيمَ

 (হে আল্লাহ!) আমাদেরকে সোজা রাস্তায় পরিচালিত কর।

صِرٰطَ الَّذينَ أَنعَمتَ عَلَيهِم غَيرِ المَغضوبِ عَلَيهِم وَلَا الضّالّينَ

 তাঁদের (নবীগণ, সিদ্দিকীন, শহীদগণ এবং নেককার লোকদের) রাস্তায় পরিচালিত কর, যাদের প্রতি তুমি অনুগ্রহ করেছ, তাদের (ইহুদি এবং তাদের মতো লোকদের) রাস্তায় পরিচালিত করো না যাদের উপর তুমি অসন্তুষ্ট এবং তাদের (খ্রিস্টান ও তাদের মতো লোকদের) রাস্তায় পরিচালিত করো না, যারা (সত্যকে জানার পর, তা অমান্য করার কারণে) সঠিক রাস্তা হারিয়ে পথভ্রষ্ট ও গুমরাহ হয়েছে।

ইহুদি: যারা মুসা আলাইহিস সালাম কে অনুসরণ করে তাদের কে ইহুদি বলা হয়।

ঈসায়ী: যারা ঈসা আলাইহিস সালাম কে অনুসরণ করে তাদেরকে ঈসায়ী বলা হয়।

সূরা সম্পর্কে কিছু কথা: সূরা ফাতিহা পবিত্র আল কুরআনের প্রথম সূরা, এর মধ্যে রয়েছে সাতটি আয়াত। সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে তাই একে মাক্কী সূরা বলা হয়। হাদীসে সূরাটির একাধিক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, ইমাম হোক অথবা মুক্তাদি সালাতের প্রত্যেক রাকাতে সূরাটি পাঠ করা ওয়াজিব। সূরাটির একাধিক নাম রয়েছে, তন্মধ্যে একটি হল " উম্মুল কুরআন" কুরআনের মা, কারণ এ সূরার মধ্যে রয়েছে পুরো কুরআনের সারমর্ম। 

* সূরা ফাতিহা কে তিন ভাগে বিভক্ত: (১) আয়াত নং ১ থেকে ৩ পর্যন্ত, রয়েছে আল্লাহর প্রসংশা, বৈশিষ্ট্য এবং গুণাবলী। 

(২) আয়াত নং ৪ এ রয়েছে, বান্দার স্বীকারোক্তি যে, হে আল্লাহ! তোমারই আমরা ইবাদত করি এবং তোমারই নিকট সাহায্য চাই।

(৩) আয়াত নং ৫ থেকে ৭ পর্যন্ত রয়েছে হেদায়েতর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া। 

বিস্তারিত আলোচনা: 

* আয়াত নং ১ থেকে ৩ পর্যন্ত, রয়েছে আল্লাহর প্রসংশা, বৈশিষ্ট্য এবং গুণাবলী। অর্থাৎ বিশ্ববাসী কে স্পষ্ট ভাষায় স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আল্লাহ হলেন যাবতীয় প্রশংসার একমাত্র অধিকারী। তিনিই সমগ্র বিশ্বের রব, প্রতিপালক, বড় মেহেরবান এবং পরম দয়ালু, বিচার দিবসের মালিক, অতএব তোমরা একমাত্র তাঁরই প্রসংশা কর। 

* আয়াত নং (৪) এ বলা হয়েছে, হে বিশ্ববাসী! যখন আল্লাহ হলেন তোমাদের রব, প্রতিপালক, সমগ্র বিশ্বের প্রতিপালক, বিচার দিবসের মালিক। তিনিই ছাড়া আর কি কেউ আছে যিনি হবেন ইবাদতের যোগ্য ও অধিকারী?! না আর কেউ নেই, একমাত্র তিনিই ইবাদতের যোগ্য ও অধিকারী। অতএব স্বীকারোক্তি দাও এবং বল: হে আল্লাহ! তোমারই আমরা ইবাদত করি এবং তোমারই নিকট সাহায্য চাই।

দুনিয়াতে যতগুলো মাবুদ (উপাস্য) আমরা দেখেছি, মানুষ পথভ্রষ্ট হয়ে এবং শয়তানের চক্রান্তে পড়ে যাদের ইবাদত ও পুজা করে, প্রকৃতপক্ষে এরা মাবুদ (উপাস্য) হওয়ার যোগ্যতা ও অধিকার রাখে না, এরা তো দুর্বল, নিজেই আল্লাহর ক্ষমতার অধীনে। স্পষ্ট ভাষায় আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেন:

 يٰأَيُّهَا النّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ فَاستَمِعوا لَهُ ۚ إِنَّ الَّذينَ تَدعونَ مِن دونِ اللَّهِ لَن يَخلُقوا ذُبابًا وَلَوِ اجتَمَعوا لَهُ ۖ وَإِن يَسلُبهُمُ الذُّبابُ شَيـًٔا لا يَستَنقِذوهُ مِنهُ ۚ ضَعُفَ الطّالِبُ وَالمَطلوبُ

অনুবাদ: হে লোক সকল! একটি উপমা বর্ণনা করা হলো, অতএব তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোন; তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের পূজা কর, তারা কখনও একটি মাছি সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা সকলে একত্রিত হয়। আর মাছি যদি তাদের কাছ থেকে কোন কিছু ছিনিয়ে নেয়, তবে তারা তার কাছ থেকে তা উদ্ধার করতে পারবে না, প্রার্থনাকারী ও যার কাছে প্রার্থনা করা হয়, উভয়েই শক্তিহীন। (সূরা হজ্জ আয়াত নং ৭৩)।

* ইবাদতের যোগ্য ও অধিকারী হতে হলে পাঁচটি বৈশিষ্ট্য ও গুণ থাকা বাঞ্ছনীয়, যা সূরা ইখলাসের মধ্যে স্পষ্ট আকারে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ কে ছেড়ে মানুষ শয়তানের চক্রান্তে পড়ে দুনিয়াতে যাদের ইবাদত ও পুজা করে, তাদের কে সূরা ইখলাসের মাপকাঠিতে ওজন করিলেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এসব হচ্ছে মিথ্যা ও মানুষের মনগড়া মাবুদ ও উপাস্য। প্রকৃতপক্ষে এরা মাবুদ ও উপাস্য হওয়ার যোগ্যতা ও অধিকারই রাখে না। সূরা ইখলাসে আল্লাহ বলেন:

قُل هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ، اللَّهُ الصَّمَدُ، لَم يَلِد وَلَم يولَد، وَلَم يَكُن لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ

অনুবাদ: (হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) আপনি বলুন: তিনি আল্লাহ, এক, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি, এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই। (সূরা ইখলাস আয়াত নং ১-৪)।

সূরা ইখলাসে বর্ণিত আল্লাহ রব্বুল আলামীনের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য ও গুণ নিম্নরুপ:

(১) আল্লাহ এক অদ্বিতীয়।

(২) তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। 

(৩) তিনি কাউকে জন্ম দেননি।

(৪) কেউ তাঁকে জন্ম দেয়নি।

(৫) তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।

সূরা ইখলাসে বর্ণিত আল্লাহ রব্বুল আলামীনের উক্ত পাঁচটি বৈশিষ্ট্য ও গুণকে সামনে রেখে যদি আমরা সেইসব মাবুদ ও উপাস্য সমূহকে (মানুষ আল্লাহ কে ছেড়ে শয়তানের চক্রান্তে পড়ে যাদের ইবাদত ও পুজা অর্চনা করে থাকে) পরিক্ষা করি, 

তাহলে আল্লাহর উক্ত বৈশিষ্ট্য ও গুণ সমূহের সামনে সকল প্রকার উপাস্য ধরা খেয়ে পরিক্ষায় ফেল হয়ে যাবে এবং তাদের মিথ্যা ও মনগড়া হওয়াটা সূর্যের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে যাবে। 

*দুনিয়াতে মানুষ আল্লাহ ছাড়া যাদের ইবাদত ও পুজা অর্চনা করে, তা সাধারণত দুই প্রকার:

(১) প্রকৃতির উপাদান যেমন চাঁদ, সূর্য, নক্ষত্র, নদী, পাথর, বৃক্ষ, মাটি বা নির্দিষ্ট প্রাণী যেমন: মানুষ (নর-নারি), জ্বিন, গরু, হাতি, ইত্যাদি। 

(২) অপ্রাকৃতিক: যেগুলো প্রকৃতির উপাদান নয় যেমন: মানুষের তৈরি করা মুর্তি ইত্যাদি ।

আসুন! বিবেচনা করি: প্রকৃতির উপাদান যেমন: চাঁদ, সূর্য, নক্ষত্র, নদী, পাথর, বৃক্ষ, মাটি বা নির্দিষ্ট প্রাণী যেমন: মানুষ (নর-নারি), জ্বিন, গরু, হাতি, ইত্যাদি সবই হচ্ছে মাখলুক, আল্লাহর সৃষ্টি, অমুখাপেক্ষী নন, সবাই হচ্ছে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রব্বুল আলামীনের মুখাপেক্ষী, আল্লাহর আদেশ ও সাহায্য ছাড়া তারা নিজেরা কিছুই করতে সক্ষম নন, এমনকি অন্যের তো দূরের কথা নিজের জন্যেও কোনো উপকার বা ক্ষতি করতে পারে না। আর কথা হল মুর্তি যেগুলো মানুষ তৈরি করে, এগুলো মানুষের চেয়ে চেয়ে অধিক দুর্বল, কারণ মানুষ এগুলো তৈরি করেছে, যখন মানুষের তৈরি, মানুষের চেয়ে দুর্বল, তাহলে কেমনে তারা মাবুদ ও উপাস্যর হতে পারে?! কখোনোই নয়। বুঝতে পারলাম এগুলো সব মানুষের মনগড়া, মিথ্যা উপাস্য। আর প্রকৃত ও সত্য মাবুদ হল একমাত্র আল্লাহর যাত, তিনি সর্বশক্তিমান, সকলের সৃষ্টিকর্তা, সমগ্র বিশ্বের রব, প্রতিপালক, বিচার দিবসের মালিক। তিনিই এক অদ্বিতীয়, কারো মুখাপেক্ষী নন বরং সকলেরই তাঁর মুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি, এবং কেউ তাঁকে জন্ম দেয়নি, এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।

* আয়াত নং ৪ এর মধ্যে আল্লাহর ইবাদত এবং আল্লাহর সাহায্য উভয় বিষয়ে বান্দার পক্ষ থেকে স্বীকারোক্তির কথা বলা হয়েছে যে, হে বিশ্ববাসী! তোমরা স্বীকারোক্তি দাও যে, আল্লাহ ছাড়া কেউ ইবাদতের যোগ্যতা ও অধিকার নেই, এবং আল্লাহ ছাড়া কেউ সাহায্য করার ক্ষমতাও রাখে না। সুতরাং মানুষের করণীয় সব প্রকার মনগড়া ও মিথ্যা মাবুদ ও উপাস্যদের কে ত্যাগ করে, সমস্ত ক্ষেত্রে, মুহূর্তে ও বিষয়ে এক আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা। এটাই হল একজন মুমিন ও আনুগত্যকারী বান্দার পরিচয়।

যারা আল্লাহর ইবাদত ত্যাগ করে অন্যের ইবাদত ও উপাসনা করে, অথবা আল্লাহর ইবাদতে অন্যদের কে শরিক (অংশীদার) করে, তারা হল আল্লাহর অবাধ্য ও না-ফারমান, কাফের এবং মুশরিক।

* আয়াত নং ৫ থেকে ৭ পর্যন্ত রয়েছে আল্লাহর নিকট হেদায়েতের প্রার্থনা ও দরখাস্ত। বিশ্ববাসী কে আল্লাহ আদেশ করা হয়েছে, হে বিশ্ববাসী! তোমরা আল্লাহর নিকট হেদায়েত প্রার্থনা কর, সরল ও সোজা পথের হেদায়েতের চাও, তাঁদের পথের হেদায়েত চাও যাদের উপর আল্লাহ বিশেষ অনুগ্রহ করেছে, নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম), সিদ্দিকীন, শহীদগণ এবং সালেহীনদের পথে পরিচালিত কর। এঁদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:

وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسولَ فَأُولٰئِكَ مَعَ الَّذينَ أَنعَمَ اللَّهُ عَلَيهِم مِنَ النَّبِيّۦنَ وَالصِّدّيقينَ وَالشُّهَداءِ وَالصّٰلِحينَ ۚ وَحَسُنَ أُولٰئِكَ رَفيقًا

অনুবাদ: আর যে কেউ আল্লাহর হুকুম এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর হুকুম মান্য করবে, তাহলে তাঁরা তাঁদের সঙ্গী হবে যাঁদের প্রতি আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন। তাঁরা হলেন নবীগণ, সিদ্দিকীন, শহীদগণ ও সালেহীন ব্যক্তিবর্গ। আর তাঁদের সান্নিধ্যই হল উত্তম। (সূরাতুন নিসা আয়াত নং ৬৯)।

এখনে মনে রাখা দরকার যে, হেদায়েতের মালিক একমাত্র আল্লাহ। আল্লাহ ছাড়া কেউ হেদায়েত দান করতে সক্ষম নয়। এমনকি আল্লাহ রব্বুল আলামীন তাঁর প্রিয় রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে সম্বোধন করে বলেন:

إِنَّكَ لا تَهدى مَن أَحبَبتَ وَلٰكِنَّ اللَّهَ يَهدى مَن يَشاءُ ۚ وَهُوَ أَعلَمُ بِالمُهتَدينَ

অনুবাদ: (হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) আপনি যাকে পছন্দ করেন, তাঁকে হেদায়েত দান করতে পারেন না, তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদায়েত করেন। কে হেদায়েত পাবে, সে সম্পর্কে তিনিই (আল্লাহ) ভাল জানেন। (সূরা কাসাস আয়াত নং ৫৬)।

* বান্দার উচিত, হেদায়েতের সাথে সাথে পথভ্রষ্টতা থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা ও দোয়া করা, সূরা ফাতিহার আয়াত নং ৭ এ বলা হয়েছে যে, হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে তাদের পথে পরিচালিত করো না, যারা লানত প্রাপ্ত এবং যারা 

পথভ্রষ্ট ও গুমরাহ। এখানে লানত প্রাপ্ত বলতে ইহুদী জাতি এবং পথভ্রষ্ট ও গুমরাহ বলতে ঈসায়ী (খ্রিস্টান) সম্প্রদায় কে বুঝানো হয়েছে। ইহুদী জাতি বারবার আল্লাহর অবাধ্যতা ও না-ফারমানি করার কারণে লানত প্রাপ্ত (অভিশপ্ত) হয়েছে, এবং ঈসায়ীরা হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এর প্রতি নাযিলকৃত দ্বীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কারণে পথভ্রষ্ট ও গুমরাহ হয়েছে।

What's Your Reaction?

Like Like 3
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0